বয়কট (Boycott) শব্দের উদ্ভব

“চার্লস কানিংহাম বয়কট”; Charles Cunningham Boycott (১২ইমার্চ ১৮৩২- ১৯ জুন ১৮৯৭) নামক এক আইরিশ ভূপ্রশাসকের নাম থেকে বয়কট (Boycott) শব্দের উদ্ভব। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। বিয়ের পর সেনাবাহিনীর চাকুরি ছেড়ে দিয়ে আয়ারল্যান্ডের মেয়ো কাউন্ট্রিতে (Mayo county) তৃতীয় আর্ক অব উমরাও (Ark of Umrao)-এর একটি স্টেটের ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার কাজ ছিল বর্গা চাষীদের কাছ থেকে জমির ভাড়া আদায়। তিনি যখন চাকুরিতে যোগ দেন তখন ন্যায্য ভাড়া, বর্গা না-বদলানো এবং ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রদান-সহ আরো কিছু দাবি আদায়ের জন্য চাষীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল।

বয়কট দায়িত্ব নিয়ে দেখতে পেলেন- চাষীদের অবস্থা খুবই করুণ। কিছু কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষ চলছে। ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে পার্লামেন্ট মেম্বার ও জনপ্রিয় নেতা চার্লস পারনেলের নেতৃত্বে গঠন করা হয় আইরিশ ন্যাশনাল ল্যান্ড লিগ। তিনি আমেরিকা থেকে দুর্ভিক্ষপীড়িত আইরিশদের জন্য সাহায্য নিয়ে এসে ঘোষণা দেন, “যদি কোনো বর্গা চাষি এমন কোন জমিতে কাজ নেয় যেখান থেকে আরেক বর্গাচাষীকে উৎখাত করা হয়েছে, তাহলে তাকে সামাজিকভাবে একঘরে করা হবে। অধিকন্তু, জমির মালিক নির্ধারিত হারে জমি বর্গা দিতে রাজি না-হলে তাকেও সামাজিকভাবে একঘরে করা হবে।

বর্গা চাষীরা দলে দলে বয়কটের কাছে এসে বর্গা-হার কমানোর আবেদন করেন, কিন্তু তিনি তা না-কমিয়ে চাষিদের বরখাস্ত করতে শুরু করেন। চাষী এবং বয়কটের কর্মচারীরা তার পাশব আচরণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ত্যাগ করে চলে যান। বয়কট, জমি থেকে ফসল তোলার জন্য কাউকে ফেলেন না। চাষীরা পুরো এলাকায় বয়কটকে সামাজিকভাবে একঘরে করে ফেলেছেন। ফলে, অবস্থা এমন হলো যে, এলাকার সবাই তার সঙ্গে কথা বলা এবং মেশা বন্ধ করে দেন। বাজরে গেলেও তার কাছে কেউ কিছু বিক্রয় করত না; এমনকি ডাক পিয়নও তার চিঠি বিলি করত না ।

উপায়হীন বয়কট, ব্রিটিশ সৈন্যদের পাহারায় ৫০ জন কৃষক এনে ফসল তোলার কাজ সে বছরের মতো সম্পাদন করলেন। পরের মৌসুমে আবার একই অবস্থা সৃষ্টি হলে নিরুপায় বয়কট রাতের অন্ধকারে আয়ারল্যান্ড ত্যাগ করে চলে যান। কিন্তু ততদিনে আয়ারল্যান্ডের মেয়ো কাউন্ট্রি-সহ আশেপাশের এলাকায় “বয়কট” নামাটি একঘরে করার নতুন শব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়। কয়েক বছরের মধ্যে তা পুরো ইংল্যান্ড হয়ে সারা ইউরোপ; অতঃপর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

Post a Comment

Previous Post Next Post